১০ কারণে ইসলামী ব্যাংক দখল করতে চায় ভারত
ইসলামী ব্যাংক দখলের এযাবৎ যত কাহিনী শুনেছেন, সব কাহিনীই সুগারকোটেড। আসল কাহিনী কেউ আপনাকে শুনতে দেয়নি। কারণ, এই ব্যাংক দখলের সঙ্গে জড়িত আছে ভারতীয় আধিপত্যবাদের নীল ছোঁবল। সে কথা আপনাকে ‘প্রথম আলো’ও শুনাবে না,‘কালের কণ্ঠ’ও শুনাবে না। এরা সবাই ভারতের পেইড এজেন্ট।
ইসলামী ব্যাংক বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে। বাংলাদেশ বাঁচলে বাংলাদেশপন্থীরা টিকে যাবে। আর বাংলাদেশপন্থীরা টিকে গেলে ভারতীয় আধিপত্যবাদ হেরে যাবে। তাই যে কোন মূল্যে ইসলামী ব্যাংক দখল করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে ভারত। বাংলাদেশে ইন্ডিয়ান হেজিমনির এই সর্বনাশা খেলার পুতুল হয়ে এর আগে কাজ করেছে বিতাড়িত আওয়ামী লীগ,এখন করছে বিএনপি।
রাতারাতি ইসলামী ব্যাংক দখলও হয়ে গেছে। শেখ হাসিনার অন্তরঙ্গ সহযোগী ভারতপন্থী ক্রিমিনিালকে ইসলামী ব্যাংকের নয়া চেয়ারমান নিয়োগ করেছে বিএনপি সরকার। এমডিকে অপসারন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক অলরেডি ভারতের দখলে চলে গেছে।
ইসলামী ব্যাংক ভারতের দখলে যাওয়া মানেই বাংলাদেশকে আবার ভারতীয় আগ্রাসনের কবলে গিলে ফেলা। শিলং সন্নাসীকে এজন্যই এক যুগ ট্রেনিং দিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়েছে ভারত। বিএনপি ক্ষমতায় বসে সে কারণেই প্রথমে ইসলামী ব্যাংককে ভারতের হাতে তুলে দেওয়ার বন্দোবস্ত চুড়ান্ত করেছে।
শিলং সন্নাসীকে যে সব অ্যাসাইনমেন্ট দিয়ে বাংলাদেশে পাঠনো হয়েছিল,এস আলম গংদের ইসলামী ব্যাংকে ফিরে আনার মাধ্যমে সেই অ্যাসাইনমেন্টের প্রথম এজেন্ডা বাস্তবায়িত হচ্ছে এখন।
ব্যাংকিং খাতে “দখল” মানে কেবল মালিকানা নয়; বরং ঋণ অনুমোদন, পরিচালনা পর্ষদ, শেয়ার কাঠামো এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা পেয়ে যাওয়া। এরকম ১০টি কারণে ভারত এখন বাংলাদেশের ইসলামী ব্যাংক দখলের খেলায় মেতেছে।
#প্রথমত : ভারতবিরোধী শক্তির জ্বালানী খতম করা
ভারত তাদের আধিপত্য বিস্তারের সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশের ইসলামী ব্যাংককে। ভারত গভীর বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হয়েছে যে, বাংলাদেশে ভারতবিরোধী শক্তির জ্বালানী জোগান দেয় ইসলামী ব্যাংক।
হাসিনা পালানোর পরবর্তী সময়ে বেহাত হয়ে যাওয়া বাংলাদেশে ইন্ডিয়ান হেজিমনি বা ভারতীয় আধিপত্য পুন:প্রতিষ্ঠার জন্য তাই প্রথমেই ইসলামী ব্যাংকে দখলে নিতে চায় ভারত। ভারত বুঝে গেছে যে, ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে জড়িত সকল জনগোষ্ঠী এবং প্রবাসী আয়ের বিশাল শক্তি,সবই ভারতীয় আধিপত্যবাদ বিরোধী।
এজন্য ইসলামী ব্যাংক দখল করা মানেই নির্বিঘ্নে ভারতীয় আধিপত্যবাদ কায়েম করা। ইসলামী ব্যাংক দখল করা মানেই হাসিনাকে আবার বাংলাদেশে পূনর্বাসিত করার সুযোগ পাওয়া।
#দ্বিতীয়ত : বাংলাদেশের আর্থিক খাতের দখল নেওয়া
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের ইতিহাসে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি শুধু একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি অর্থনৈতিক শক্তিকেন্দ্র, রাজনৈতিক প্রভাবের উৎস এবং রাষ্ট্রক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক হিসেবে ইসলামী ব্যাংকের আমানত, গ্রাহকভিত্তি, প্রবাসী আয় এবং ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক এতটাই বিশাল যে, এ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ মানে শুধু একটি ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং দেশের অর্থনীতির একটি বিশাল প্রবাহের উপর প্রভাব প্রতিষ্ঠা করা। ইসলামী ব্যাংক দখলে নিতে পারলে বাংলাদেশের আর্থিক খাতের এক বিশাল অংশ দখলে নিতে পারবে ভারত।
ইসলামী ব্যাংক দেশের একক বৃহত্তম বেসরকারি ব্যাংক। সাধারণ মানুষের কোটি কোটি টাকার আমানত ও রেমিট্যান্সের একটি বিশাল অংশ এই ব্যাংকে জমা থাকে। ফলে এই ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার অর্থ হলো একটি বিশাল আর্থিক তহবিলের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। এজন্য বাংলাদেশকে কব্জায় রাখতে হলে ইসলামী ব্যাংক দখল করা ভারতের জন্য একেবারে ফরজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তৃতীয়ত : রেমিট্যান্স প্রবাহ বন্ধ করে দেওয়া
হসিনা খেদাও আন্দোলনে একটা বড় শক্তি জুগিয়েছেন প্রবাসীরা। ভারত দেখেছে যে প্রবাসীদের অধিকাংশই চরম ভারতবিরোধী। সেই প্রবাসীদের অধিকাংশই ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে জড়িত। এজন্য ইসলামী ব্যাংক দখল করতে পারলে প্রবাসীদের রেমিট্যান্স প্রবাহ নিয়ন্ত্রন করা যাবে এবং ভারতবিরোধীদের ইচ্ছামত সাইজ করা যাবে।
চতুর্থত : আদর্শিক ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ন্ত্রন
ইসলামী ব্যাংকের সাথে বাংলাদেশের একটি নির্দিষ্ট বড় জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় ও আদর্শিক আবেগ জড়িয়ে আছে। ঐতিহাসিকভাবে ব্যাংকটির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে যারা এর সাথে জড়িত ছিল, তাদের সাথে রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষমতার সমীকরণ মেলাতে গিয়ে ভারত টের পেয়েছে যে, ভারতীয় আধিপত্য বিস্তারের সবচেয়ে বড় যারা বাধা,তাদের হাতেই এই ব্যাংকের নিয়ন্ত্রন ।
এজন্য ইসলামী ব্যাংক দখল করতে না পারলে ভারত তাদের বাংলাদেশকে গ্রাস করার যে রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চায়,তা সম্ভব হবে না।
পঞ্চমত : ভারতবিরোধী শক্তিকে দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক ঝুঁকিতে ফেলা
ভারত ইসলামী ব্যাংক দখল করে এই ব্যাংককে ধ্বংস করে দিতে চায়। কারণ,
ইসলামী ব্যাংকের মতো একটি সিস্টেমিক্যালি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংক যদি এভাবে টিকে থাকে,তাহলে বাংলাদেশে ভারতবিরোধী শক্তিকে নির্মুল করা সম্ভব হবে না।
এজন্য ঘন ঘন ব্যাংকের চেয়ারম্যান-এমডি পরিবর্তন করা হচ্ছে এবং জোরপূর্বক চেয়ারম্যান-এমডিকে পদত্যাগে বাধ্য করা হচ্ছে। এই সংস্কৃতি চালু রাখলে শুধু ইসলামী ব্যাংকই ধ্বংস হবে না। বাংলাদেশের পরিণতিও খুব খারাপ হবে। দেশের পুরো অর্থনীতির জন্য ভয়াবহ হয়ে উঠবে।
ষষ্ঠত : গ্রাহকের আস্থা ও সংকট তৈরি করা
ইসলামী ব্যাংকের বিপুল সংখ্যক সাধারণ গ্রাহক যখন দেখবেন যে, ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রাজনৈতিক টানাটানি চলছে, তখন তারা ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নেওয়ার তাড়না অনুভব করেন। এতে ব্যাংকে চরম তারল্য সংকট সৃষ্টি করে ইসলামী ব্যাংককে ধ্বংস করতে চায় ভারত।
সপ্তমত : বৈদেশিক বাণিজ্যে ধাক্কা দেওয়া
ভারত সবসময় চায় বাংলাদেশ বৈদেশিক বাণিজ্যে সব সময় পিছিয়ে থাকুক। এবং বাংলাদেশকে যেনো সব সময় ভারতের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হয়। এই পরিস্থিতি সৃষ্টি করার জন্যই ভারত ইসলামী ব্যাংকে নিয়ন্ত্রনে নিতে চায়। কারণ, আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলো এলসি বা ঋণপত্র খোলার ক্ষেত্রে একটি ব্যাংকের সুশাসনের ওপর জোর দেয়।
ইসলামী ব্যাংকে এই ধরনের অস্থিরতা থাকলে বিদেশি ব্যাংকগুলো বাংলাদেশের সাথে বাণিজ্য অর্থায়নে অনীহা প্রকাশ করবে, যা দেশের আমদানি-রপ্তানি খাতকে সংকটে ফেলবে। এত করে ভারতীয় আধিপত্য বিস্তরের পথ পরিষ্কার হবে।
অষ্টমত : ঋণখেলাপী সংস্কৃতি বহাল রাখা
ভারত চায় বাংলাদেশে ঋণখেলাপি সংস্কৃতি বহাল থাকুক। এজন্য ইসলামী ব্যাংকে এই অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে ভারত। এতে এক পক্ষ গিয়ে যখন অন্য পক্ষ ক্ষমতার জোরে ব্যাংকে বসে, তখন আগের পক্ষের দেওয়া ঋণ আদায়ে কোনো সদিচ্ছা থাকে না। ফলে নন পারফর্মিং লোন (এনপিএল) বা খেলাপি ঋণের পরিমাণ জ্যামিতিক হারে বাড়তে থাকে। এভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরো দুর্বল করে ফেলতে সক্ষম হওয়ার জন্য ইসলামী ব্যাংক দখল করতে চায় ভারত।
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বেসরকারি ব্যাংকগুলোর একটি। এর শত শত শাখা, বিশাল আমানতভিত্তি, প্রবাসী রেমিট্যান্স নেটওয়ার্ক এবং ধর্মীয় আস্থাভিত্তিক গ্রাহকগোষ্ঠী রয়েছে।
নবমত : ভারতের অনুগত ব্যবসায়ী শ্রেণি তৈরি করা
বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকিং কেবল একটি আর্থিক মডেল নয়; এটি একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অর্থনৈতিক বলয়। দেশের মধ্যবিত্ত, প্রবাসী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং ধর্মীয়ভাবে সংবেদনশীল জনগোষ্ঠীর বড় অংশ ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে যুক্ত। ফলে এ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ মানেই বিপুল তারল্যের উপর নিয়ন্ত্রণ,করপোরেট ঋণপ্রবাহে প্রভাব,শিল্পখাতের অর্থায়নে কর্তৃত্ব,এবং রাজনৈতিকভাবে অনুগত ব্যবসায়ী শ্রেণি তৈরি করার সুযোগ।
এই কারণেই ভারত বাংলাদেশে তাদের আধিপত্য বিস্তারের ক্ষেত্রে ইসলামী ব্যাংককে কৌশলগত সম্পদ হিসেবে দেখে।
বাংলাদেশে বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠী ও রাজনৈতিক ক্ষমতা একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। যে গোষ্ঠী ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ করে, সে শিল্পঋণ, আমদানি-রপ্তানি অর্থায়ন এবং করপোরেট সম্প্রসারণে বিশাল সুবিধা পায়।
দশমত : ফ্যা.সিবাদ ফেরানোর রাস্তা তৈরি করা
ইসলামী ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ মানে, হাজার হাজার কোটি টাকার তারল্য,ব্যবসায়িক পুন:অর্থায়ন,এবং রাজনৈতিক অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান নিতে পারা।
ইসলামী ব্যাংকের দখল নেওয়া মানেই ফ্যা.সিবাদ ফেরানোর রাস্তা তৈরি করা। এ কারণে ভারতীয় আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য ইসলামী ব্যাংক নিয়ন্ত্রণের লড়াইও শুরু হয়ে গেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে যেসব নাটকীয় পরিবর্তন ঘটছে। আগস্ট বিপ্লবের পরিবর্তিত পরিস্থিতে নিয়োগপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও এমডি অপসারণ, নতুন বোর্ড নিয়োগ, এস আলম গোষ্ঠীর প্রত্যাবর্তনের সুযোগ সৃষ্টি করা; এসবই কেবল প্রশাসনিক পরিবর্তন হিসেবে দেখলে ভুল হবে।
এর পেছনে রয়েছে অর্থনৈতিক আধিপত্য, রাজনৈতিক আনুগত্য, করপোরেট স্বার্থ এবং রাষ্ট্রক্ষমতার জটিল সমীকরণ। এর সঙ্গে সবচেয়ে গভীর ভাবে জড়িয়ে আছে আমাদের শত্রুপ্রতিবেশি ভারতের আধিপত্য বিস্তারের স্বার্থও।
বাংলাদেশের অর্থনীতি এবং ব্যাংকিং খাতের সবচেয়ে বড় এবং সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠান হলো ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি। এই ব্যাংকের সাম্প্রতিক সংকট, বারবার নেতৃত্ব পরিবর্তন এবং রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রভাব গভীর ভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এর পেছনে কেবল বাহ্যিক রাজনৈতিক ক্ষমতার দ্বন্দ্ব নয়, বরং গভীর প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত দুর্বলতা স্পষ্ট ।
হাসিনা আমলে ইসলামী ব্যাংক লুটপাট করে এস আলমের উত্থান, ২০২৪-পরবর্তী পুনর্গঠন, আবার নতুন করে বোর্ড পরিবর্তন, সবকিছু প্রমান করে যে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত এখন পুরাটাই ভারতীয় নেটওয়াওয়ার্কের কবলে পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাং আদতেই কোন শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠতে পারেনি।
ভারত পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকেও তাদের নিয়ন্ত্রেনে নিয়ে ফেলেছে। আর সব কিছুতেই ভারতকে সুয্গে করে দিতে বিতাড়িত আওয়ামী লীগের বিকল্প হয়ে কাজ করছে বিএনপি।
......................................
এফ শাহজাহান
ক্রাইসিস অ্যানালাইসিস
২৬ মে ২০২৬
......................................

0 Comments