পিপীলিকার পাখা ও অন্যান্য'
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ তাঁর একাডেমিক জীবনে দুর্দান্ত সফল ছিলেন। ১৯৭৭ সালের এসএসসি পরীক্ষায় কক্সবাজারের অবিভক্ত চকরিয়ার গ্রামের একটি স্কুল থেকে অংশ নিয়েও রেকর্ড পরিমাণ নাম্বার পেয়েছিলেন। এইচএসসি পড়েছেন ঐতিহ্যবাহী চট্টগ্রাম কলেজে। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ। শুরু থেকেই পড়াশুনায় ভালো হওয়ায় অনায়াসেই বার কাউন্সিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে এডভোকেট হয়ে গেছেন, তেমন গলদঘর্ম হতে হয়নি।
তবে ১৯৮৫ সালে অনুষ্ঠিত ৭ম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে হয়ে গেলে আর ওকালতিতে যাননি, সরকারি চাকরিতে জয়েন করেছেন। তিনি যখন বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব, তখন হঠাৎ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার এপিএস হিসেবে কাজ করার অফার আসে। এটাই তাকে রাজনীতিতে পোক্ত জায়গা করে দেয়। অবশ্য ইতিপূর্বে তিনি ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এবং কিছুদিনের জন্য ভারপ্রাপ্ত সভাপতিও ছিলেন।
সালাহউদ্দিন যখন পুরোদস্তুর রাজনীতিতে নেমে পড়লেন, একাডেমিক এবং প্রফেশনাল জীবনের মতো সাফল্য পেলেন সেখানেও। কক্সবাজার–১ (চকরিয়া, পেকুয়া) আসন থেকে ১৯৯৬ এর ফেব্রুয়ারি এবং জুন, ২০০১; টানা তিনটি নির্বাচনে বিপুল ভোটে এমপি নির্বাচিত হলেন। ২০০৮ এ তিনি কারারুদ্ধ থাকায় নির্বাচন করেন স্ত্রী হাসিনা আহমেদ। তিনিও বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। ২০০১ সালে যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী হওয়ার মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা-উত্তর কক্সবাজারে সালাহউদ্দিনই প্রথম মন্ত্রী হন।
তিনি মূলত শিলং ম্যাকানিজমেই আজকের রাজনীতিতে রাজত্ব করছেন। জামায়াতের সাংসদ ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন সংসদে তাঁর ব্যাপারে যে অভিযোগ তুলেছেন, তার সত্যতা আছে। এস আলমের গাড়িতে চড়ে সংবর্ধনা নিতে যাওয়ায় ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর দৈনিক যুগান্তর নিউজ করেছিল। এমনকি তাকে সে সময় কারণ দর্শানোর নোটিশও দিয়েছিল বিএনপি। অতি অর্জন মানুষকে অহংকারী করে তোলে। এমন মানুষদের পতনও হয় অত্যন্ত ভয়ংকরভাবে। সালাহউদ্দিন আহমেদের জন্য সম্ভবত সেই সময়টা ঘনিয়ে আসছে।
'পিপীলিকার পাখা ও অন্যান্য'/ লাবিব আহসান

0 Comments