জামায়াতকে নিয়ে খেলতে গিয়ে শেষ খেলাটা কে খেলবে!
দিল্লির কোলে বসে জামায়াতকে নিয়ে খেলাটা ভালোই খেলছে বিএনপি। ইসলামী ব্যাংক ইস্যুতে জামায়াতকে ব্যাস্ত রেখে গণভোট ইস্যু পুরো নাই করে দিয়েছে।ব্যাংক ইস্যুতে জামায়াতের পাশে দাঁড়ানোর মত কোন দল নেই। এমনকি জামায়াতের রাজনৈতিক জোটসঙ্গীরাও সুনসন নীরব।
মাওলানা মামনুল হকের দলরে কথা বাদ দিলাম।কারণ তিনি হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম-মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তার রাজনৈতিক দল খেলাফত মজলিস নিয়ে জামায়াতের সাথে জোট করাতে অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতের পক্ষ থেকে তিনি চাপে আছেন।কারণ,হেফাজতে ইসলাম বিএনপির সাথে জোটে আছে।
ইসলামী ব্যাংক ইস্যুতে একা বিএনপি নয়,জামায়াত নেতার প্রতিষ্ঠিত এই ব্যাংক ধ্বংস হোক এটা অন্যন্য রাজনৈতিক দলগুলো যেমন চায় তারচেয়ে বেশি চায় হেফাজতে ইসলাম ও পীর মাজার পূজারীপন্থীরা।
ভারত যখন হাসিনার কাঁধে ভর করে জামায়াত শিবির কোপাছিল,বিএনপিসহ সমস্ত রাজনৈতিক অরাজনৈতিক দলগুলো চাপা আনন্দ ভোগ করছিল।তারা ভাবছিল জামায়াত আর কোনদিনও মাজা সোজা করে দাঁড়াতে পারবে না।
জামায়াতকে রাজপথ থেকে কোনঠাসা করার পর বিএনপির হাই প্রোফাইল নেতা,যারা ভারত বিরোধী তাদের ওপর হাসিনার খড়গ নেমে আসে।
অপরদিকে বিএনপির যেসব নেতা রাতে গিয়ে হাসিনার চরণে সিজদাহ্ করে আসতেন তারা বেঁচে যান।হাসিনার ক্ষোভের সব শেষ বলি খালেদা জিয়া।
সেই হাসিনা আজ নেই। কিন্তু হাসিনার ভারত আছে,এস আলম আছে,এস আলমের আছে সালাউদ্দিন আহমেদ।
আবারও টার্গেট জামায়াত। কারণ,জামায়াতে ইসলামী ভারতের টার্গেট।জামায়াত ইসলামী একমাত্র দল যে দলের নেতাদেরকে ভারত ক্রয় করতে পারেনি।জামায়াত নেতাদের মাথা টাকায় বিক্রি হলে গলায় ফাঁসির দড়ি উঠত না বরং ক্ষমতার বড় বড় চেয়ার মিলত।
ভারতের কোলে উঠে বিএনপি সাথে আঁতাত করে জামায়াতকে নির্মূল করার মিশনে যারা আত্মনিয়োগ করেছেন,তাদের নিকট প্রশ্ন, জামায়াতকে কোনঠাসা করার পর কি আপানাদের এমন কোন ক্ষমতা আছে যে বিএনপির নিকট থেকে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি আদায়ে করে নিতে পারবেন? জানি,এর জবাব নেই।
একটা কথা বলি,জামায়াতকে নির্মূল করা ভারতের প্ল্যান। হাসিনাকে দিয়ে ভারত সেটা করাতে পারেনি, তারেক রহমানের কাঁধে ভর করে ভারত সেই পুরোনো খেলায় মেতেছে।এবারও ব্যার্থ হবে।
তবে ভারতের নিকট তারেক রহমানও নিরাপদ নয়।ভারতের পছন্দের লোক কিন্তু সালাউদ্দিন আহমেদ। দেশে খুন ধর্ষণের মহোৎসব চলছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নীরব থাকলেও ব্যাংক নিয়ে সরব।
১/১১ এর সরকার নিয়ে আসার পিছনে বিএনপির হাই প্রোফাইল নেতারা জড়িত ছিলেন।উদ্দেশ্য জিয়া পরিবার মাইনাস করা। সেই তারাই আজ তারেক রহমানকে চারদিকে ঘিরে রেখেছেন।ভারত চাই একটা ১/১১ এর সরকার অথবা মধ্যবর্তী নির্বাচন।খু/ন ধ/র্ষ/ণের মহোৎসব এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নীরবতা তারই একটা পেক্ষাপট তৈরি করা হচ্ছে কিনা সময় হলে জবাব মিলবে।ততদিনে জাতির যা ক্ষতি হবার হয়ে যাবে।
জামায়াতকে নিয়ে খেলতে গিয়ে শেষ খেলাটা কে খেলবে, সেটা দেখার জন্য কিছুটা সময় অপেক্ষা মাত্র।

0 Comments