Recent Tube

মাজারকেন্দ্রিক সাতশত বছরের ধারাবাহিক অবৈধ নীতির উপর কুঠারাঘাত হানলেন, সিলেটের মাননীয় জেলা প্রশাসক জনাব সারওয়ার আলম-- মাজহারুল ইসলাম জয়নাল


মাজারকেন্দিক সাতশত বছরের ধারাবাহিক অবৈধ নীতির উপর কুঠারাঘাত হানলেন, সিলেটের মাননীয় জেলা প্রশাসক জনাব সারওয়ার আলম-- 

সুলতানে সিলহেট হযরত শাহজালাল (রহ) এর দরগাহ ও হযরত শাহপরান রহ এর দরগাহকে কেন্দ্র করে একদল কায়েমী সুবিধাভোগী, সামন্তবাদের মতো মানুষের ধর্মীয় আবেগ অনুভূতি আর সরলতাকে পুঁজি করে বংশানুক্রমিকভাবে বছরের পর বছর, শতাব্দীর পর শতাব্দী মাজারে আগত দর্শনার্থীদের মান্নত,নজর, দান,সাদকা ইত্যাদী ভোগ করে আসছেন। এছাড়াও দুটি মাজারের বিভিন্ন স্হাপনা ও আয়বর্ধক উৎস থেকে আসা দৈনিক ও মাসিক বিভিন্ন ভিত্তিতে আসা লক্ষ লক্ষ, কোটি-কোটি টাকা কতিপয় ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর লোকেরা নিজেদের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারা করে খেয়ে আসছিলেন।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের আবেদনের প্রেক্ষিতে পরিকল্পনা কমিশনের নির্দেশের আলোকে সিলেটের অত্যন্ত চৌকস ও সাহসী জেলা প্রশাসক জনাব সারওয়ার আলম আজ ১০ জুন সকাল ১১ টায় জেলাপ্রশাসকের কনফারেন্স হলে উভয় মাজারের কমিটি, মাদরাসা ও মসজিদ পরিচালনা কমিটির মোতাওয়াল্লী, সরে কওমকে নিজ দায়িত্বের আওতায় মাজার ব্যবস্হাপনা, আয়-ব্যয়ের হিসাবসহ উপস্থিতির জন্য নির্দেশ জারি করেন।

এ সময় দরগাহ মাদরাসার মুহতামিম সাহেব, বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি সিলেট জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ এহসান উদ্দিন  ও মহানগর সভাপতি সভাপতি মাওলানা হাবীব আহমদ শিহাব, জেলা শাখার সেক্রেটারি মাওলানা জালাল উদ্দীন ভুইঁয়া, ওয়াক্ফ স্টেটের কর্মকর্তা, সিলেট সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা, ইসলামিক ফাউণ্ডেশন সিলেট জেলা কার্যালয়ের এডি সহ বিভিন্ন পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। এডিসি জনাব মাসুদ রানার পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় উভয়  মাজারের  কমিটির নেতৃবৃন্দ দৈনিক, মাসিক ও বার্ষিক আয় ও ব্যয়ের কোনো সুস্পষ্ট রেকর্ড দেখাতে সক্ষম হননি।

মাননীয় জেলাপ্রশাসক জনাব সারওয়ার আলম বলেন, হযরত শাহজালাল রহ ও তদীয় ভাগ্না হযরত শাহপরান রহ আমাদেরকে বিশ্বব্যাপী পরিচিত করে তুলেছেন, আমরা গর্বের সঙ্গে বুক উঁচিয়ে বলি, আমরা তাঁদের উত্তরসুরী। তাঁরা এ অঞ্চলে এসেছিলেন তাওহীদের আহবান নিয়ে, অন্যায়-জুলুম অত্যাচারের বিরোদ্বে তথা পৌত্তলিক শাসক গৌড়গোবিন্ধের সাথে লড়াই করে সিলেটবাসীকে আলোকোজ্জ্বল হেরার পথে আহবান জানাতে। হজরত শাহ জালাল রহ ও তদীয় ভাগ্না হযরত শাহপরান রহ কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা ব্যক্তির সম্পদ নয়; তাঁরা গোটা সিলেটবাসীর সম্পদ।  মহান আল্লাহর দেয়া আশির্বাদ ও রহমত। তিনি নির্দেশ জারি করেন, এখন থেকে সকল আয় ও ব্যায়ের হিসাব স্বচ্ছতার সাথে সংরক্ষণ করতে হবে এবং নিয়মিত প্রশাসনের নিকট রিপোর্ট জমা দিতে হবে। তিনি আরো বলেন,এ দুই মাজারকে কেন্দ্র করে প্রতি সপ্তাহে অর্ধ লক্ষাধিক পর্যটকের আগমন ঘটে সিলেটে। যার ফলে এতদন্চলের মানুষের ব্যবসা বাণিজ্যে বিপুল সমৃদ্ধি হচ্ছে। কিন্তু পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা, ট্রান্সপোর্টের পার্কিং সুবিধা, মাজারের পরিচ্ছন্নতা সহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা গড়ে উঠছেনা। এজন্য মাজার মসজিদকে সকল প্রকার অত্যাধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্পন্ন, নারীদের জন্য একটি ফ্লোর বরাদ্দ রেখে মাল্টি স্টরিড দৃষ্টি নন্দন মসজিদে পরিণত করা , মাদরাসাকে বাংলাদেশের দেওবন্দ হিসেবে পরিণত করতে তাঁর রয়েছে একটি ম্যাগা প্লান। দরগাহে হযরত শাহজালাল রহ মাদরাসার লাইব্রেরীকে বিশ্বের সকল দুর্লভ ও দুস্প্রাপ্য কিতাবাদীর মারকায ও মাখযানে পরিণত করতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

ধন্যবাদ মাননীয় জেলাপ্রশাসক সারওয়ার আলম। পূর্ণ হোক আপনার স্বপ্ন। সফল হোক হযরত শাহজালাল রহ ও শাহপরান রহ এর সিলেট আগমনের মিশন ও ভিশন। আমরা চাই, সুলতানে সিলহেট হযরত শাহজালাল রাহিমাহুল্লাহ সহ অন্যান্য মাজারে সকল প্রকার ধর্মবিরুধী কার্যক্রম বন্ধ হোক এবং ইসলামের সুমহান আদর্শের কেন্দ্রবিন্দু হোক মাজার সমূহ। মাজারের টাকা ব্যয় হোক ইসলামের নির্দেশনার আলোকে সামাজিক উন্নয়ন এবং অসহায়-দরিদ্র মানুষের জনকল্যাণে। আজকের উপস্থিতিটা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মাজহারুল ইসলাম জয়নাল 
১১.০৬.২০২৬

Post a Comment

0 Comments