Recent Tube

দ্বীনি শিক্ষা। মুহিউল ইসলাম চৌধুরী


রাসূলুল্লাহ (স) দিগন্তে যাকে দেখেছিলেন তিনি ছিলেন রুহুল ক্বুদস,ফেরেশ্তা জিব্রাঈল (আঃ)। নিশ্চয়ই তিনি আল্লাহকে দেখেননি । 
হুজুর (স) ছয়শত ডানাধারী ফেরেশতা হযরত জিব্রাঈল (আঃ) কে তাঁর আসল সূরতে দুইবার দেখেছেন। যা সূরা আন-নজমে উল্লেখ করা হয়েছে।  
---------------------------------
  
فَکَانَ قَابَ قَوۡسَیۡنِ  اَوۡ اَدۡنٰی  ۚ﴿  ۹﴾  
 ফলে তাদের মধ্যে দুই ধনুকের ব্যবধান রইল অথবা তারও কম। কেউ কেউ অনুবাদ করেছেন দুই হাত পরিমাণ। এখানে নবী করীম (সাঃ) এবং জিবরীল (আঃ)-এর পারস্পরিক নিকটবর্তিতার কথা উল্লেখ করা হচ্ছে। মহান আল্লাহ এবং নবী করীম (সাঃ)-এর কাছাকাছি হওয়ার কথা বলা হচ্ছে না। যেমন কেউ কেউ এটাই বুঝাতে চেষ্টা করেন। 
   আয়াতগুলোর প্রাসঙ্গিক আলোচনা থেকে একথা স্পষ্ট যে, এতে কেবল জিবরীল এবং নবী করীম (সাঃ)-এর বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। এই নিকটবর্তিতার সময়ই নবী করীম (সাঃ) জিবরীল (আঃ)-কে তাঁর আসল আকৃতিতে দেখেন। আর এটা হল নবুঅত প্রাপ্তির প্রথম দিকের সেই ঘটনা, যার আলোচনা এই আয়াতগুলোতে করা হয়েছে। 
হুজুর (সঃ) দ্বিতীয়বার আসল আকৃতিতে হযজরত জিব্রাঈল (আঃ) কে দর্শন করেন মি'রাজের রাতে। 
وَ لَقَدۡ رَاٰہُ  نَزۡلَۃً   اُخۡرٰی  ﴿ۙ۱۳﴾
নিশ্চয়ই সে তাকে আরেকবার দেখেছিল।

عِنۡدَ سِدۡرَۃِ  الۡمُنۡتَہٰی ﴿۱۴﴾
সিদরাতুল মুনতাহার নিকট। এটা হল মি'রাজের রাতে যে জিবরীল (আঃ)-কে তাঁর আসল আকৃতিতে দেখেছিলেন, তারই বর্ণনা। এই 'সিদরাতুল মুন্তাহা' হল ষষ্ঠ বা সপ্তম আসমানে অবস্থিত একটি কুল (বরই) গাছ। আর এটাই শেষ সীমা। এর উপরে কোন ফিরিশতা যেতে পারেন না। ফিরিশতাকুল আল্লাহর বিধানাদিও এখান থেকেই গ্রহণ করেন।

  তাফসীরে ইবনে কাসীরে উল্লেখ করা হয়েছে হুজুর (স) হযরত জিব্রাঈল অা কে দেখেছিলেন ছয়শত ডানাবিশিষ্ট্য। যাঁর একেকটি ডানা বা পালক আকাশের প্রান্তসীমাকে ঢেকে ফেলেছিল ।

   যারা বলেন, হুজুর (স) মে'রাজের রাতে আল্লাহকে দেখেছেন তাদের জন্য উপরের আয়াতগুলোর ব্যাখ্যাই যথেষ্ট ।
তাছাড়া হাদীস শরীফে এসেছে''তিনি অাল্লাহর নূর দেখেছেন''।
উম্মত জননী আয়শা সিদ্দীকা (রা) নবী (স) কতৃক মহান আল্লাহকে দেখার বিষয়টি দ্ব্যার্থহীন ভাষায় নাকচ করে দিয়েছেন ।

   মাসরুক (র) থেকে বর্ণীত তিনি বলেন,আমি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহাকে জিজ্ঞেস করলাম, “আম্মা! মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি তাঁর রবকে দেখেছিলেন? তিনি বললেন,তোমার কথায় আমার গায়ের পশম কাঁটা দিয়ে খাড়া হয়ে গেছে। তিনটি কথা সম্পর্কে তুমি কি অবগত নও? যে তোমাকে এ তিনটি কথা বলবে সে মিথ্যা বলবে। যদি কেউ তোমাকে বলে যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রবকে দেখেছেন, সে মিথ্যাবাদী। তারপর তিনি পাঠ করলেন, “তিনি দৃষ্টির অধিগম্য নহেন; কিন্তু দৃষ্টিশক্তি তাঁর অধিগত এবং তিনিই সূক্ষ্মদর্শী, সম্যক পরিজ্ঞাত।” [সূরা আল-আন‘আম, আয়াত: ১০৩] “মানুষের এমন মর্যাদা নেই যে, আল্লাহ তার সাথে কথা বলবেন, ওহীর মাধ্যম ছাড়া অথবা পর্দার অন্তরাল ব্যতিরেকে।” [সূরা আশ-শূরা,আয়াত: ৫১] আর যে ব্যক্তি তোমাকে বলবে যে, আগামীকাল কী হবে সে তা জানে, তাহলে সে মিথ্যাবাদী। তারপর তিনি তিলওয়াত করলেন, “কেউ জানে না আগামীকাল সে কী অর্জন করবে।” [সূরা লোকমান, আয়াত: ৩৪] আর তোমাকে যে বলবে যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো কথা গোপন রেখেছেন, তাহলেও সে মিথ্যাবাদী। এরপর তিনি পাঠ করলেন, “হে রাসূল! তোমার রবের কাছ থেকে তোমারপ্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে, তা প্রচার কর।” [সূরা আল-মায়েদা, আয়াত: ৬৭]  হ্যাঁ, তবে রাসূল জিবরীল আলাইহিস সালামকে তাঁর নিজস্ব আকৃতিতে দু’বার দেখেছেন।” ( বুখারী, হাদীস নং ৪৮৫৫)।
  সূতরাং বিশ্বনবী (স) অাল্লাহকে দেখেছেন একথাটি সর্বৈব মিথ্যা।  তবে তিনি তাঁর ইজ্জতকে দেখেছেন।

Post a Comment

0 Comments