তারেক রহমানের দেশে ফেরা ও ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড: রাশেদ প্রধানের বিস্ফোরক বিশ্লেষণ ও প্রশ্ন?
তারেক রহমানের দেশে ফেরা ও বিএনপি: রাশেদ প্রধান প্রশ্ন তুলেছেন যে, তারেক রহমান কেন একা দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না এবং তাকে কারা এই সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করছে।
তিনি আনন্দবাজার পত্রিকার একটি হেডলাইন ("খালেদা পুত্র সম্বল নাকি এই মুহূর্তে হিন্দুস্তান") উল্লেখ করে বিএনপির নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং জানতে চান কোন চুক্তির মাধ্যমে তিনি দেশে ফিরছেন?
নিজের সিদ্ধান্তে ফিরতে না পারা: রাশেদ প্রধান বলেন, তারেক রহমান লন্ডনে বসে নিজেই বলেছিলেন যে, বাংলাদেশে ফেরত আসার সিদ্ধান্তটি শুধুমাত্র তাঁর একার নয়।
এখান থেকেই রাশেদ প্রধান প্রশ্ন তোলেন—যিনি নিজের দেশে ফেরার মতো একটি ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত একা নিতে পারেন না, তিনি কার ওপর নির্ভরশীল?
ওসমান হাদি হত্যার সাথে সংযোগ: রাশেদ প্রধান একটি নির্দিষ্ট সময়ের দিকে ইঙ্গিত করেন। তিনি বলেন, যেদিন শহীদ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হলো, ঠিক তার ১২-১৩ দিন আগে পর্যন্ত তারেক রহমান বলছিলেন যে তিনি একা সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। কিন্তু ওসমান হাদি হত্যার দিন বিকেলেই হঠাৎ করে সিদ্ধান্ত এল যে তাঁকে এবার নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে এবং দেশে ফিরতে হবে।
রহস্যময় শক্তি: রাশেদ প্রধান সরাসরি জানতে চান, সেই সন্ধ্যায় কারা তাঁকে এই সিদ্ধান্ত দিয়ে দিল যে "এবার আপনি বাংলাদেশে ফেরত যান"?
তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যে, একটি নির্দিষ্ট হত্যাকাণ্ড বা বিশেষ কোনো পরিস্থিতির পরপরই কেন এই সিদ্ধান্তের পরিবর্তন হলো এবং এর পেছনে কোন শক্তির হাত রয়েছে?
জনগণের অধিকার: তাঁর মূল বক্তব্য ছিল, কোন চুক্তির মাধ্যমে বা কাদের পরামর্শে তারেক রহমান হঠাৎ দেশে ফেরার ঘোষণা দিলেন, এই সত্যটুকু জনগণের জানার অধিকার আছে।
ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি: তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে 'ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, যারা দিল্লি পালিয়ে গেছে তাদের পাশাপাশি নতুন করে যারা দিল্লির সামনে মাথা নত করে ক্ষমতা দখল করতে চাচ্ছে, তারা নতুন ফ্যাসিবাদ সৃষ্টি করছে।
মৌলবাদ ও ভারতের ভূমিকা: তিনি প্রশ্ন তোলেন কেন হঠাৎ করে বিএনপি মৌলবাদ নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ল, যেখানে বেগম খালেদা জিয়া ইসলামপন্থীদের সাথে নিয়ে রাজনীতি করতেন?
তিনি দিল্লিতে বাংলাদেশের দূতাবাসে হামলা এবং বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতার ঘটনাগুলোকে ভারতের 'র' (RAW)-এর পরিকল্পনা বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন।
জঙ্গিবাদ ও ষড়যন্ত্র: রাশেদ প্রধান দাবি করেন যে, বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে 'জঙ্গী রাষ্ট্র' হিসেবে প্রমাণ করার চেষ্টা চলছে যাতে দিল্লির অনুসারী বা শেখ হাসিনার মতো কাউকে আবার ক্ষমতায় আনা যায়]।
সার্বভৌমত্ব রক্ষা: তিনি বলেন, যুগে যুগে যারা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে খেলাধুলা করেছে, সেই শক্তিগুলো আবারও সক্রিয় হচ্ছে। ওসমান হাদি বা আবরার ফাহাদের মতো যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের সেই রক্ত যেন বৃথা না যায় এবং দেশ যেন আবার দিল্লির তল্পিবাহক না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
মূলত তিনি ওসমান হাদির রক্তকে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর মৃত্যু পরবর্তী সময়ে রাজনীতির মোড় পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন
সংক্ষেপে, রাশেদ প্রধান বোঝাতে চেয়েছেন যে তারেক রহমানের দেশে ফেরার এই 'হঠাৎ সিদ্ধান্ত' কোনো স্বাভাবিক প্রক্রিয়া নয়, বরং এর পেছনে অন্য কারো পরিকল্পনা বা বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে।
জনগণের প্রতি আহ্বান: তিনি জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যদি এই ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়া না যায়, তবে বাংলাদেশ আবার দিল্লির প্রভাব বলয়ে চলে যাবে।

0 Comments