লেখাটা ধৈর্য ধরে পড়ে দেখতে পারেন লিখেছেন সংগঠন না করা এক ভাই
Juel M. Hasan
-----------------------------
কালকে দেখলাম, সাদিক কায়েমের বিরাট মিছিলের সামনে পথ আটকে ছাত্রদল গুপ্ত গুপ্ত বলে শ্লোগান দিচ্ছে? প্রকাশ্যে যারা মিছিল করছে তারা গুপ্ত? এ আবার কেমন গুপ্ত?
#Nasir ভাইয়ের সাথে পরিচয় সেই ২০০৯ সাল থেকে, অনেক পরিশ্রম করে এপর্যন্ত এসেছেন। আমরা অনেক খুশি আপনা ভাইকে এপর্যায়ে দেখে।
সমস্যা হইলো, ভাই যে চিল্লায়া ঘোষণা দিলেন- ভবিষ্যতে গুপ্ত রাজনীতি কোন ক্যাম্পাসে থাকতে পারবে না এইটা কি বাস্তব ওয়ার্নিং নাকি ফাও ফাপর?
ক্যাম্পাস না, পারলে আপনার ঘর থেকে গুপ্ত নির্মূল করে দেখিয়েন নাসির ভাই।
শিবির করতে কাউকে ওরা বাধ্য করেনা আবার আপনি চাইলেই করতে পারবেন না। ব্যাটে বলে মিলতে হবে, তানাহলে হবেনা।
ছোটভাই #Sibgatullah Sibga এখন সেন্ট্রাল সেক্রেটারি, আমাদের কোলেপিঠেই ভার্সিটির দিনগুলোতে বেড়ে উঠেছে, রাজনীতি করেছে।
আমার ঘনিষ্ট বন্ধুবান্ধব #Chhatrashibir ছেড়ে এখন রুকন হইছে। কলিজার ভাই-ব্রাদার এবার এমপি হইছে, শিবিরের বিরাট দায়িত্ব সামলেছে অতীতে। আমার পরিবারে সাবেক শিবির ও বর্তমান জামায়াতের নেতাকর্মী আছে (ছোট না বেশ বড়সড় ও নিবেদিত )
কিন্তু খোদার কসম আমি কোনোদিন শিবির করার দাওয়াত পাইনাই, ওরা দাওয়াত দেয়নাই শুধু নামাজে ডাকতো। অনেকবার কারণ জিজ্ঞেস করেছি, বলেনা কিছু! নানান গালি শুনি, শিবির করে এগুলো শুনলে কষ্ট থাকতো না।
এলাকার ভালো ছাত্রটার কাছে কে যায়?
যারা কিরিচ হাতে ঘোরে, বিরাট মিছিল করে বিরিয়ানি খায়, টেম্পু স্ট্যান্ডের দখল ষোলোআনা যাদের হাতে তারা যায় নাকি শিবির যায়? না জানলে খোজ খবর করেন।
শিবিরই যায়, বারবার যায়। প্রথমে কথা বলে খোজ খবর রাখে, গাইড করে, পাশে থেকে সাপোর্ট দেয়; তারপর সম্পর্ক, তারপর ধীরে ধীরে নিজের ভেতরে টেনে নেয়। একসময় সেই ছেলেটা শিবির হয়ে যায়। এরপর শুরু হয় আসল কাজ- শুধু দলীয় কর্মী না বানিয়ে বরং যোগ্য মানুষ হিসেবে, এসেট হিসেবে গড়ে তোলার কাজ।
নিজেদের কোচিং, মেধাবী টিম, সাপোর্ট সিস্টেম -সব আছে। টাকা দরকার? সেটাও ম্যানেজড থাকে। পড়াশোনা? সেটার গাইডলাইনও রেডি। একটা ছেলে ধীরে ধীরে বড় হয়; ইউনিভার্সিটি, তারপর ক্যারিয়ার। দেশে বা দেশের বাইরে। কিন্তু সে একা যায় না, একটা অদৃশ্য নেটওয়ার্ক সঙ্গে নিয়ে যায়।
শিবির কোথায় কোথায় আছে -এই প্রশ্ন করা বোকামি। বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত- জামায়াতে, বিএনপিতে, ছাত্রদলে, এনসিপিতে, বামে, আওয়ামীলীগে, ছাত্রলীগে বা তাবলীগে কোথায় নাই?
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্পোরেট লিডার, বিদেশি প্রতিষ্ঠান -সব জায়গায় ছড়িয়ে আছে। কিন্তু সবাইকে আপনি চিনবেন না। কারণ সবাই পরিচয় দেয় না। ইচ্ছা করেই দেয় না, আপনার পছন্দ না হলেও এটাই তাদের স্ট্র্যাটেজি।
অনেকেই ভাবেন, সবকিছু ওপেন না মানে তারা দুর্বল, তারা ভীতু। আসলে উল্টা, আপনি অতি সরল চশমায় রাজনীতি দেখেন। এই অপ্রকাশ্য রাজনীতির জায়গাটাই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।
এমনকি জামায়াত ক্ষমতায় গেলেও তাদের সবাই সামনে আসবে না। এবার নির্বাচনের আগে প্রকাশ্য হবার সামান্য ঝুঁকি নিয়েছিল কিন্তু পরিস্থিতি বিবেচনায় আবারো ব্যাক করেছে। কারণ খেলাটা যেভাবে খেলতে চায়, সেই মাহেন্দ্রক্ষণ এখনো আসেনি।
মজার ব্যাপার কী জানেন?
এই দেশে যারা আজকে ছাত্রদল, বিএনপি বা অন্যদলের হয়ে সবচেয়ে জোরে কথা বলে- তাদের অনেকের রাজনীতি শুরুর গল্পটা অন্যরকম। কারও কারও পথচলা শুরুই হয়েছিল শিবির থেকে। বাইরে যা-ই থাকুক, ভিতরে ভিতরে নেটওয়ার্ক কিন্তু এখনও চাঙ্গা।
আরেকটা জিনিস,
সারাদিন যারা গুপ্ত বা রাজাকার বলে ট্রল করে, তাদের অনেকেই নিজেরাই কোনো এক সময় সেই নেক্সাসের সদস্য ছিল। এখন তারা হাসে, ঠাট্টা করে, এগুলো লোক দেখানো। আবার সত্যি সত্যিই যারা ছেড়ে গিয়ে অন্য রাজনীতি করছে, এই নেটওয়ার্ক কিভাবে কাজ করে, সেটা তারা অন্যদের চেয়ে আরো ভালো জানে। তাদের অনেকেই আমার পরিচিত এবং এখনো ইয়ানতদাতা শিবির কর্মী।
মানে কি একটা অবস্থা!
ধরেন, সামনের বার জামায়াত ক্ষমতায় আসলো এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা হলো। বিরোধীদল রাস্তায় আন্দোলন নামলো। আপনি যাকে দেখবেন স্লোগান দিচ্ছে, সরকারের পতন চাইতেছে। তাকেও সন্দেহের বাইরে রাখবেন না। কারণ এইটা রোল প্লে গেইম। কে কোথায় থাকবে, কী বলবে - সেটা ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট ডিসাইড করে এবং সব সময় যা দেখেন, সেটা ফাইনাল কিছুনা।
আমার দৃষ্টিতে, এইটাই স্মার্ট পলিটিক্স। আমি গুপ্ত রাজনীতির পক্ষের লোক। আমি নেতার গাড়ির চাকায় পিষ্ঠ হবার রাজনীতির বিরুদ্ধে লোক।
আর এই গুপ্ত জায়গাটা নতুন কেউ দখল করতে পারবে -এটা মনে হয় না। কারণ এই নেটওয়ার্ক একদিনে বানায় নাই, বছরের পর বছর ধরে এই সিস্টেম দাঁড় করানোর পিছনে অনেক শ্রম, ঘাম, মেধা ও ত্যাগ জড়িয়ে আছে।
এই জন্যই যত চেষ্টা করা হোক, শিবিরকে একদম উপড়ে ফেলা অসম্ভব! শুধুমাত্র রাজনৈতিক সংগঠন হলে সম্ভব ছিল কিন্তু মনে রাখতে হবে এটা একটা স্ট্রং নেটওয়ার্ক; কোন ব্যক্তির হাতে কিছুই নাই। স্বয়ং জামায়াত আমির চাইলেও এটা থামাতে পারবে না।
ধারণা করি,
একদিন দেশে একটা ভূমিকম্প হবে, যেদিন অপ্রকাশিত বড় একটা অংশ প্রকাশ্যে আসবে। সেদিন কোনো বিল্ডিং ভেঙে পড়বে না, কিছু ধ্বসে পড়বে না -সব আগের মতোই থাকবে। কিন্তু মানুষ কিছু সময়ের জন্য থ হয়ে যাবে আর বলতে বলতে থাকবে তাহলে এতদিন যা দেখেছি সবই কি দেখার ভুল ছিল?
সেদিন বেশি দূরে না।
লিখেছেন : Juel M. Hasan

0 Comments