যৌবনে হাতে গোনা যে দু-চারজন আল্লাহর বান্দাকে দেখে দ্বীনি আন্দোলনের পথে হাঁটা শিখেছিলাম, মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী রাহিমাহুল্লাহ তাঁদের অন্যতম।
ছাত্রজীবন থেকেই তাঁকে দ্বীনি উস্তাদ হিসেবে পাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল:
আমিরে জামায়াত ও সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা
ডা: শফিকুর রহমান
সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর প্রবীন নেতা অধ্যক্ষ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর ইন্তেকাল গভীর শোক পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা.শফিকুর রহমান। এক শোক বার্তায় তিনি বলেন, প্রিয় সম্মানিত মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী (সাবেক সংসদ সদস্য) আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
মহান রবের ডাকে সাড়া দিয়ে গতরাত আনুমানিক ১:৩০টার দিকে সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি দুনিয়া ছেড়ে চলে গেলেন।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাঁর গোটা জীবনের সমস্ত নেক আমল কবুল করুন, তাঁর প্রতি রহম করুন, তাঁর গুনাহখাতা ক্ষমা করুন এবং তাঁকে তাঁর প্রিয় বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। তাঁকে জান্নাতের আ'লা দারাজাহ দান করুন।
যৌবনে হাতে গোনা যে দু-চারজন আল্লাহর বান্দাকে দেখে দ্বীনি আন্দোলনের পথে হাঁটা শিখেছিলাম, মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী রাহিমাহুল্লাহ তাঁদের অন্যতম। ছাত্রজীবন থেকেই তাঁকে দ্বীনি উস্তাদ হিসেবে পাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল।
দ্বীনের ব্যাপারে তাঁর গভীর জ্ঞান, দূরদৃষ্টি, সাংগঠনিক যোগ্যতা এবং সর্বোপরি দাঈ ইলাল্লাহ হিসেবে তিনি আমাদের কাছে একান্ত অনুকরণীয় এক মহান ব্যক্তিত্ব ছিলেন।
তাঁর বিচরণক্ষেত্র ছিল পুরো সিলেট বিভাগজুড়ে। এক নামে তাঁর সমসাময়িক সবাই তাঁকে চিনতেন। এমনকি তাঁর আদর্শিক প্রতিপক্ষরাও তাঁকে অন্তর থেকে সম্মান করতেন।
ফ্যাসিস্ট আমলে তাঁকে যুদ্ধাপরাধ মামলায় জড়ানোর অপচেষ্টা চালানো হলে ফ্যাসিস্ট সরকারের দলীয় অনেক নেতাও এই অপকর্মের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যান।
একজন রাজনৈতিক নেতার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য কতটা শক্তিশালী হলে বিপদের সময় আপন-পর সবাই পাশে দাঁড়ায়, তা নিশ্চয়ই উপলব্ধি করার বিষয়।
জামায়াতে ইসলামীর দুঃসময়ে যে কয়জন মানুষকে বিভিন্ন সময় ঝুঁকি মোকাবিলা করতে হয়েছে, তিনি তাঁদের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব। দেশ ছেড়ে বিদেশে যাওয়ার বহু লোভনীয় প্রস্তাব তিনি কখনো গ্রহণ করেননি। দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং দায়িত্ববোধ থেকেই তাঁর এমন বলিষ্ঠ সিদ্ধান্ত আমাদের সবাইকে অনুপ্রাণিত করত।
তিনি চলে গেছেন মহান রবের দরবারে। আমাদের জন্য রেখে গেছেন অনেক শিক্ষা, অনুপ্রেরণা এবং বিপদে ধৈর্য ধারণের ছবক।
অসুস্থ হওয়ার পর দীর্ঘ কয়েক বছর কেটে গেলেও তিনি কখনো অধৈর্য হননি, হিম্মত হারাননি। বরং তিনি সব সময় আল্লাহ তা'আলার ওপর গভীর নির্ভরশীলতার এক উজ্জ্বল প্রতীক ছিলেন।
দোয়া করি, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাঁর নতুন এই সফরকে নিরাপদ ও বরকতময় করুন, তাঁকে মাগফিরাতের চাদরে ঢেকে দিন, আবরার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন এবং জান্নাতের আ'লা দারাজাহ দান করুন।
আল্লাহ তাআলা তাঁর স্ত্রী, পুত্র, কন্যা, আপনজন, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষী সবাইকে সবরে জামিল দান করুন। আমিন।
-------------------------
লেখক : আব্দুল কাদির তপাদার লেখক,সাংবাদিক কলামিস্ট ও অনলাইন এক্টিভিস্ট

0 Comments